নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণ: আপনার সম্পূর্ণ গাইড
![]() |
নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য আদর্শ গন্তব্য। এখানকার প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর সান্নিধ্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। |
নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণ: আপনার সম্পূর্ণ গাইড।
নিঝুম দ্বীপ বাংলাদেশের এক অনন্য পর্যটন কেন্দ্র, যা নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত। মেঘনা নদীর মোহনায় বঙ্গোপসাগরের বুকে গড়ে ওঠা এই দ্বীপ তার মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চিত্রা হরিণ, অতিথি পাখি, ও শান্ত সাগর সৈকতের জন্য জনপ্রিয়। নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণ আপনার শরীর ও মনের জন্য যেমন সতেজতা বয়ে আনবে, তেমনি আপনাকে প্রকৃতির একেবারে কাছে নিয়ে যাবে।
---
নিঝুম দ্বীপের ইতিহাস ও নামকরণ,
নিঝুম দ্বীপ প্রথমে পরিচিত ছিল "চর ওসমান" নামে। পরে এই দ্বীপটি ঘূর্ণিঝড়ে জনমানব শূন্য হয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে হাতিয়ার তৎকালীন সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম কালাম এর নামকরণ করেন "নিঝুম দ্বীপ"। ২০০১ সালে এটি জাতীয় উদ্যান হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
![]() |
| নিঝুম দ্বীপের সবুজ প্রকৃতির মাঝে চিত্রা হরিণের নিরিবিলি জীবন - প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অমোঘ টানে ভ্রমণপিপাসুদের স্বর্গ। |
দর্শনীয় স্থানসমূহঃ
১.চিত্রা হরিণ ও অতিথি পাখি
শীতকালে হাজারো অতিথি পাখির মিলনমেলা এবং ম্যানগ্রোভ বনের ভেতরে বিচরণ করা চিত্রা হরিণের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে হলে নিঝুম দ্বীপই সেরা।
২.নামা বাজার সৈকত
সন্ধ্যায় সৈকতের ঢেউয়ের শব্দ ও সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বারবিকিউ বা ক্যাম্পিংয়ের জন্যও এটি আদর্শ।
৩.ভার্জিন আইল্যান্ড
দমার চরের দক্ষিণে নতুন সৈকতটি "ভার্জিন আইল্যান্ড" নামে পরিচিত। শীতের অতিথি পাখি ও নির্জন সৈকত ভ্রমণের জন্য এটি এক অসাধারণ স্থান।
৪.কবিরাজের চর ও চৌধুরীর খাল
ট্রলারে করে কবিরাজের চরে গেলে চিত্রা হরিণ দেখা যায়। চৌধুরীর খালের নৌকা ভ্রমণও বিশেষ জনপ্রিয়।
৫.জাতীয় উদ্যান এলাকা
বিভিন্ন পাখি, হরিণ এবং গাছপালার জন্য এই এলাকাটি বিখ্যাত। ফাইবার বোটে সাগর ভ্রমণ এখান থেকে সহজেই সম্ভব।
![]() |
| সূর্যাস্তের নরম আলোয় নারকেল গাছের ছায়ায় মোড়ানো এক মনোমুগ্ধকর সমুদ্রতীর। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আদর্শ ভ্রমণ গন্তব্য। |
---
নিঝুম দ্বীপে যাওয়ার উপায়
ঢাকা থেকে সড়কপথে
১. সায়দাবাদ বা জিগাতলা থেকে নোয়াখালীর সোনাপুর পর্যন্ত বাস (ভাড়া: ৪০০-৫০০ টাকা)।
২. সোনাপুর থেকে সিএনজিতে চেয়ারম্যান ঘাট (ভাড়া: ৪৫০-৫০০ টাকা)।
৩. চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরা ঘাট পর্যন্ত ট্রলার বা সি-ট্রাক (ভাড়া: ৯০-১৫০ টাকা)।
৪. নলচিরা থেকে মোটরসাইকেলে মোক্তারিয়া ঘাট (ভাড়া: ৪০০-৪৫০ টাকা)।
৫. মোক্তারিয়া থেকে ট্রলারে বন্দরটিলা ঘাট (ভাড়া: ২২ টাকা)।
ঢাকা থেকে লঞ্চে
সদরঘাট থেকে বিকাল সাড়ে ৫টায় লঞ্চ ছাড়ে এবং তমরুদ্দি ঘাটে সকাল ৯টায় পৌঁছায়।
ভাড়া:
- ডেক: ৩৫০ টাকা।
- সিঙ্গেল কেবিন: ১২০০ টাকা।
- ডাবল কেবিন: ২২০০ টাকা।
তমরুদ্দি থেকে সরাসরি ট্রলারে নামার বাজার যেতে জনপ্রতি ২০০-৩০০ টাকা।
ট্রেনে ভ্রমণ
ঢাকা থেকে নোয়াখালী মাইজদিতে পৌঁছে সিএনজিতে চেয়ারম্যান ঘাট যেতে হবে।
আরো পড়ুনঃ সোনাদিয়া দ্বীপ: বাংলার স্বর্ণদ্বীপে ভ্রমণের সম্পূর্ণ গাইড
থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা
রিসোর্ট
- নামার বাজার ও বন্দরটিলায় ১৫০০-৩০০০ টাকায় ভালো মানের রুম পাওয়া যায়।
ক্যাম্পিং
- নামার বাজারের কাছেই সৈকতের পাশে বিশাল মাঠ ক্যাম্পিংয়ের জন্য সেরা।
- ক্যাম্পিংয়ের প্রয়োজনীয় সব জিনিস জাহাজমারা বাজারে পাওয়া যায়।
খাবার
- নামার বাজারের রেস্টুরেন্টগুলোতে সামুদ্রিক মাছ ও চিংড়ি ফ্রাই জনপ্রিয়।
- আগে অর্ডার করলে ভালো মানের খাবার পাওয়া যায়।
---
নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণের সেরা সময়
অক্টোবর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত সময় নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণের জন্য আদর্শ। এই সময় আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় ম্যানগ্রোভ বন ও সৈকত ঘুরতে সুবিধা হয়। বর্ষাকালে ভ্রমণে কাদা ও অতিরিক্ত বৃষ্টি সামলাতে হয়, তবে এ সময় প্রচুর মাছ পাওয়া যায়।
---
খরচের হিসাব (প্রতি ব্যক্তি)
- বাস ভাড়া (ঢাকা থেকে সোনাপুর): ৫০০ টাকা।
- সিএনজি ভাড়া: ৫০০ টাকা।
- ট্রলার ভাড়া: ১৫০ টাকা।
- মোটরসাইকেল ভাড়া: ৪৫০ টাকা।
- রিসোর্ট/ক্যাম্পিং: ১৫০০-৩০০০ টাকা।
- খাবার: ৫০০-১০০০ টাকা।
- অন্যান্য (গাইড, নৌকা): ৫০০-১০০০ টাকা।
---
নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণে করণীয় ও সতর্কতা
1. আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে যাত্রা করুন।
2. পাওয়ার ব্যাংক, ফার্স্ট এইড, টর্চ সঙ্গে নিন।
3. পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন।
4. স্থানীয় গাইডের সাহায্য নিন।
5. দর কষাকষিতে শালীনতা বজায় রাখুন।
---
নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণ আপনাকে প্রকৃতির গভীরতা এবং জীবনের সরলতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে। যদি আপনি নিখুঁত প্রাকৃতিক পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে চান, তাহলে নিঝুম দ্বীপ হতে পারে আপনার পরবর্তী গন্তব্য।
আরো পড়ুনঃ এই শীতে ঘুরতে যাওয়ার মতো দেশের জনপ্রিয় ১০ ভ্রমণ স্থান



No comments