এই শীতে ঘুরতে যাওয়ার মতো দেশের জনপ্রিয় ১০ ভ্রমণ স্থান
শীতকাল হল বাংলাদেশের ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। এই সময়ে নেই গরমের ক্লান্তি, নেই বৃষ্টির কর্দমাক্ত সড়কের ঝামেলা। উষ্ণ আবহাওয়া থেকে মুক্ত হয়ে শীতকালে বাংলাদেশ আবারও তার নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে সেজে ওঠে। দীর্ঘ শিশিরভেজা পথে হাঁটলেও ক্লান্তি যেন স্পর্শ করতে চায় না। তাই নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে দেশজুড়ে বনভোজনের আয়োজনে মেতে ওঠে মানুষ।
শীতকালে বাংলাদেশে নিরাপদে ঘুরে বেড়ানোর জন্য কয়েকটি জনপ্রিয় স্থান হলো:
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত: পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, বিশ্বের দীর্ঘতম ১২০ কিলোমিটার অখণ্ড সমুদ্র সৈকত, যা সারাবছরই পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এখানে বিশাল ঢেউ আর অপার সৌন্দর্যের মাঝে সময় কাটানো যায় অবিরাম। কক্সবাজার ভ্রমণে প্রকৃতির অনন্য দৃশ্য উপভোগের জন্য শীতকাল অন্যতম আদর্শ সময়। সৈকতের বালুকাবেলায় সুর্যের আলো, নীল আকাশ এবং উত্তাল ঢেউয়ের অপরূপ মিলনে কক্সবাজার হয়ে ওঠে আকর্ষণীয়।
কক্সবাজার যাতায়াত: কীভাবে পৌঁছাবেন
ঢাকা থেকে কক্সবাজার পৌঁছানো যায় স্থলপথে এবং আকাশপথে। স্থলপথে, সরাসরি বাসে করে যাওয়া সম্ভব, যা ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারে পৌঁছে দেয়। আকাশপথে সহজেই ঢাকা থেকে কক্সবাজারের সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে। ট্রেনে গেলে প্রথমে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে হবে, সেখান থেকে চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ বা দামপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে কক্সবাজারগামী বাসে যাওয়া যাবে।
কক্সবাজারে কীভাবে সময় কাটাবেন
কক্সবাজারে সারাটা দিন কাটানো যায় শুধু উত্তাল ঢেউয়ের দিকে তাকিয়ে এবং সৈকতের বিস্তৃত বালুকাবেলায় হেঁটে। এতে ভ্রমণকারীরা পান প্রকৃতির সান্নিধ্য, আর সাথে থাকে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত দেখার স্মৃতি।
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, কক্সবাজার: বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ
সেন্ট মার্টিন, স্থানীয়ভাবে "নারিকেল জিঞ্জিরা" নামে পরিচিত, বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ যা প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের জন্য স্বর্গতুল্য। কক্সবাজার জেলা শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ছোট্ট দ্বীপটি ১৭ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। সাগরের নীল জলরাশিতে ঘেরা এবং সারি সারি নারিকেল গাছে সাজানো এই দ্বীপটি ভ্রমণপিপাসুদের মুগ্ধ করে তোলে।
সেন্ট মার্টিন দ্বীপে কীভাবে পৌঁছাবেন
সেন্ট মার্টিনে যাত্রার জন্য ঢাকা থেকে প্রথমে বাসে টেকনাফ পৌঁছানো যায়। টেকনাফ থেকে জাহাজে সরাসরি সেন্ট মার্টিন যাওয়া সবচেয়ে সুবিধাজনক উপায়। জাহাজগুলো সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ মাসের মধ্যে টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে চলে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে জাহাজগুলো টেকনাফ থেকে যাত্রা শুরু করে এবং বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে ফিরে আসে।
সেন্ট মার্টিনে ভ্রমণের বিশেষ আকর্ষণ
সেন্ট মার্টিনে ভ্রমণকারীরা প্রশান্ত সমুদ্রের নিঃসীম নীল জলরাশিতে ফেনিল ঢেউয়ের খেলা এবং নারিকেল গাছে সাজানো দ্বীপের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন।
কুয়াকাটা, পটুয়াখালী: সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অনন্য স্থান
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, যা বাংলাদেশের মধ্যে একমাত্র জায়গা যেখানে একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দুটোই উপভোগ করা যায়। প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সমুদ্র সৈকতটি পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানার লতাচাপলি ইউনিয়নে অবস্থিত। কক্সবাজারের মতো পর্যটকদের ভিড় না থাকলেও কুয়াকাটার নিরিবিলি বেলাভূমি, সাগরের শান্ত জলরাশি, এবং ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল একে করেছে অপরূপ ও স্বতন্ত্র।
কুয়াকাটায় যাত্রা: কীভাবে পৌঁছাবেন
ঢাকা থেকে কুয়াকাটায় যাওয়া যায় নদীপথ ও সড়কপথে। পদ্মা সেতুর সুবিধার কারণে এখন সরাসরি বাসে মাত্র ৫ ঘণ্টায় কুয়াকাটায় পৌঁছানো সম্ভব। এর আগে ঢাকা সদরঘাট থেকে লঞ্চে পটুয়াখালী বা বরিশাল হয়ে বাসে কুয়াকাটা যেতে প্রায় আধাবেলা সময় লাগত।
কুয়াকাটার বিশেষ আকর্ষণ
কুয়াকাটায় সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের অনন্য দৃশ্যের পাশাপাশি বেলাভূমি, ম্যানগ্রোভ বন, এবং আশেপাশের ছোট দ্বীপগুলোতে ভ্রমণ করে প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।
সুন্দরবন, খুলনা: বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন
সুন্দরবন, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, খুলনা, সাতক্ষীরা, বরগুনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালীসহ ভারতের কিছু অংশ জুড়ে বিস্তৃত। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই বনটি বন্যপ্রাণীদের বৈচিত্র্যপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। সুন্দরী গাছের প্রাচুর্যের জন্য এর নাম সুন্দরবন এবং এটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অন্যতম প্রধান আশ্রয়স্থল হিসেবে বিশ্ববিখ্যাত।
সুন্দরবনে যাত্রা: কীভাবে পৌঁছাবেন
সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য বন অধিদপ্তরে নির্ধারিত ফি দিয়ে অনুমতি নিতে হয়, এবং নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গ নিতে হয়। সুন্দরবনের মনোরম দৃশ্য উপভোগের জন্য লঞ্চ ও ছোট জাহাজে ভ্রমণই একমাত্র মাধ্যম।
আগে সাধারণত খুলনা বা মোংলা হয়ে সুন্দরবনে যাওয়া হতো। কিন্তু পদ্মা সেতুর সুবিধার কারণে এখন সড়কপথে সহজেই সুন্দরবনে পৌঁছানো যাচ্ছে, যা হাজারো পর্যটকদের জন্য ভ্রমণকে সহজ ও আরামদায়ক করে তুলেছে।
সুন্দরবনের বিশেষ আকর্ষণ
সুন্দরবনে বাঘ, চিত্রা হরিণ, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, এবং অসংখ্য জলজ প্রাণীর দেখা মেলে।











No comments