বর্ষায় শ্রীমঙ্গলের অপরূপ প্রকৃতি
বর্ষায় শ্রীমঙ্গলের অপরূপ প্রকৃতি
বর্ষায় শ্রীমঙ্গলের অপরূপ প্রকৃতি
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল তার সবুজ চা বাগান, উঁচু-নিচু পাহাড় এবং মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। বর্ষার মৌসুমে এই অঞ্চলটি প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য সত্যিকারের স্বর্গে পরিণত হয়। শহরের আশপাশের রাস্তা এবং চা বাগানের আঁকাবাঁকা মেঠো পথ ঘন সবুজে ভরে ওঠে, যা যেকোনো ভ্রমণপিপাসুর মন কাড়তে বাধ্য। সবুজ পাহাড় আর নীল আকাশের মিতালী পর্যটকদের মনে এক অসাধারণ ছাপ রেখে যায়।
ভানুগাছ-শ্রীমঙ্গল সড়কের ৭১ বধ্যভূমি থেকে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) পয়েন্ট পর্যন্ত যেকোনো দিকেই তাকালেই দেখা যাবে শুধু সবুজের ছড়াছড়ি। রাস্তার দু’পাশের চা বাগানের অপরূপ দৃশ্য দেখে মনে হবে যেন সবুজের কার্পেট বিছানো হয়েছে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য। রাস্তার এক পাশে চা বাগান এবং অন্য পাশে সারি সারি রাবার বাগান ভ্রমণকারীদের নিয়ে যায় কল্পনার অন্য এক জগতে।
আষাঢ়ের বৃষ্টিস্নাত বর্ষায় এখানে মাঝে মাঝে সূর্যের আলো মেঘ ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে, আবার কিছুক্ষণ পর অঝোর ধারায় ঝরে পড়ে বৃষ্টি। এই রোদ-বৃষ্টির খেলা শ্রীমঙ্গলের প্রকৃতিকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তোলে। স্থানীয় ট্যুর অপারেটররা জানান, বর্ষার সময় এখানে প্রকৃতির আসল রূপ ফুটে ওঠে, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করে।
শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী ও সাংস্কৃতিক দর্শনীয় স্থান
শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, শ্রীমঙ্গল সমৃদ্ধ তার ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক নিদর্শনেও। পর্যটকরা এখানে দেখতে পাবেন চা কন্যা ভাস্কর্য, বধ্যভূমি ৭১, চা জাদুঘর, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বাইক্কাবিল, জান্নাতুল ফেরদৌস মসজিদ, মাধবপুর লেক, এবং ব্রিটিশদের সমাধিস্থল ডিনস্টন সিমেট্রি। এছাড়া খাসিয়া এবং মনিপুরী সম্প্রদায়ের জীবনের নৃতাত্ত্বিক দৃশ্যও পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।
এছাড়াও এমআর খান চা বাগানের দার্জিলিং টিলা এবং রমেশের সাত রংয়ের চা কেবিনে ভ্রমণ এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে। শ্রীমঙ্গলের এসব দর্শনীয় স্থান বর্ষায় সবুজ লতাপাতা আর গাছপালায় সেজে ওঠে, যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে রাখে।
শ্রীমঙ্গলে কীভাবে যাওয়া যায়?
ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গলে খুব সহজেই বাস ও ট্রেনে যাওয়া যায়। হানিফ, শ্যামলী, এবং এনা পরিবহনের বাসগুলো এক ঘণ্টা পরপর ঢাকা থেকে মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়, ভাড়া ৫৭০ টাকা। এছাড়া কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে উপবন, জয়ন্তিকা, পারাবত ও কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনগুলোর মাধ্যমে ঢাকা-সিলেট রুটে ভ্রমণ করা যায়। ট্রেনে ভাড়া শ্রেণিভেদে ২৪০ থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত। পুরো যাত্রায় সাধারণত ৪-৫ ঘণ্টা সময় লাগে। প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে গেলে সময় আরও কমে যায়।
রাত্রিযাপনের জন্য শ্রীমঙ্গলে রয়েছে পাঁচ তারকা মানের রিসোর্টসহ মানসম্পন্ন অনেক হোটেল ও ইকো কটেজ। গুগল সার্চের মাধ্যমে সহজেই বুকিং করে শ্রীমঙ্গলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব।
কেন বর্ষায় শ্রীমঙ্গল ভ্রমণ করবেন?
বর্ষা মৌসুমে শ্রীমঙ্গল প্রকৃতির আসল রূপে সেজে ওঠে। এখানকার চা বাগান, রাবার বাগান, আনারস ও লেবুর বাগানগুলো এখন তাদের পূর্ণ যৌবনে থাকে। বর্ষার প্রকৃতি, কুয়াশায় আচ্ছাদিত পাহাড় আর বৃষ্টিস্নাত সবুজ চা বাগান প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।
ভ্রমণপ্রেমী থেকে শুরু করে ঐতিহ্যপ্রেমী পর্যটক—শ্রীমঙ্গলের বর্ষার প্রকৃতি সবার মন জয় করে নেয়।
.png)
.png)
.png)

.png)
No comments