জয় বাংলা - ২
জয় বাংলা - ২
আমি এক সময় মার্কসবাদ করেছি,সাম্যবাদী ইশতেহার পড়েছি,দ্বান্দ্বিক বাস্তবাদী ছাড়া আর কিছু বুঝিনি,সব কিছুর ব্যাখ্যা করেছি মার্কস এঙ্গেলের দ্বান্দ্বিক বাস্তবাদী ভাষায়,হেগেকেও টেনে এনেছি,বলেছি,কমুনিষ্ট ইশতেহার হচ্ছে শ্রেষ্ট বই,শ্রেষ্ট ঘোষণা, নেতাদের সঙ্গে স্লোগান দিয়েছি পথে পথে,কিছু পাইনি।
আমাদের নেতারা রাশিয়ার ভদকা আর চিনের বিড়ি পেত,আমরা তাও পাইনি,আমাদের সামনে রাজনৈতিক অকূল পাথারে নব দিগন্ত হয়ে দাড়ায় ছাত্রলীগ, আমি নতুন পথের দিশা পাই,আমি যোগ দিই মহান মুজিববাদী আদর্শে, দু'একটা খুন করি,ডাকাতি করি-করতে ভালই লাগে,দু একটি মেয়েকে ধর্ষন করি,আমি ঠিক ধর্ষণের মত করিনি,তাদের আমি রাজি করাই প্রথমে,ছেড়ে দিই,তারপর তাদের সাথে কয়েকবার দৈহিক সম্পর্ক হয়,আমি ঠিক মত পেরে উঠিনি,তারা বলে তুমি পারো না,আমি পারতাম না,এখন পারি-ধীরে সুস্থে পারতে শিখেছি।
মুজিববাদে মজা আছে, তার অধিকৃত ভূমিতে আমরা অনুসারীর জমিদার, বাকিরা জিম্মি,গাড়ী বাড়ী,নারী,ধন সম্পদ সব আমাদের করতলে।
ছাত্রলীগ আমাকে উদ্দীপ্ত করে,আমি প্রচন্ড উত্তেজনা বোধ করি,ওই উত্তেজনা দেহের বিশেষাঙ্গের উত্তেজনার থেকে অনেক তীব্র, অনেক বেশী প্রচন্ড,আমি দেখতে পাই আমি বেচে উঠেছি,আমি বেহেশতের স্বপে বিভোর হয়ে উঠি।
অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা পড়ে আমি বুঝতে পারি এতোকাল আমি ভূল পথে ছিলাম,এখন আমি ঠিক পথে এসেছি।
এখানে সব সময় খোয়াব,সব সময় উত্তেজনা, বাংলাদেশে মুজিববাদ ছাড়া কিছু থাকবে না-এ বিশ্বাস আমাকে মাতাল করে তোলে।
অল্প দিনেই আমি ছাত্রলীগের নেতা হয়ে উঠি,নেতা হওয়ার মত সুখ ও স্বাদ ও কাম আর নাই,
যখন গণতান্ত্রিক কিংবা ইসলামিষ্ট তখন আমার জীবনে কিছু ছিল না,ছাত্রলীগে যোগ দেয়ার পর আমি সব পাই,শুধু ক্ষমতা নয়,ক্ষমতার মধ্যে যা শ্রেষ্ট-টাকা,তা আমার হাতে অঢেল আসতে থাকে,টাকা যে পানির স্রোতের মড নানা খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়,তা আগে আমি জানতাম না,এখানে এসে দেখি নানা খাল দিয়ে ঢেউ তুলে টাকা আসছে আমার দিকে, ক্ষমতা ও টাকা মানুষকে মহাপুরুষে পরিণত করে তোলে,অমরতা দেয়, মাওবাদ,লেলিনবাদ কিংবা ডেমোক্রেসিতে আমার পকেটে টকটা আধূলিও আসতো না,
মাঝে সাঝে ডাকাতি করে দু'তিন হাজার টাকা আসত,কিন্তু সব সময় বিপদের ভয়ে থাকতে হত,এখন কোনো ভয় নাই,নেতা হওয়ার পর আমার হাতে আসতে থাকে লাখ লাখ টাকা,
টাকা যে কত সুন্দর, রূপসী,শাশ্বতী তা আমি বুঝতে পারি নেতা হওয়ার পর থেকে,রামদা,হাতুড়ি,কিরিছ কেনার পর,টোকাই পোলাপানকে বেতন দেয়ার পর আমার হাতে উদৃৃত থাকে লাখ লাখ টাকা।
আওয়ামী লীগ ছাড়া আমাকে কে এতো টাকা দিত?
টাকা পাইলে আমি জয় বাংলা বলে চিক্কর মেরে উঠি, কাছের মুজিবস্তম্বে গিয়ে ফুল দিয়ে আসি।
নেতা হওয়ার পূর্বে আমি যখন রাস্তার টোকাই ছিলাম-মেথর পট্টিতে যাইতাম ব্যাটারী ভেজানো ধেনো খাইতে,মাঝে মধ্যে এক চুমুক চোলাই জুটতো,ওগুলো খাওয়ার পয়সা ছিল না,না থেকে ভালই হয়েছে,বেশি খেলে লিভার সিরোসিসে চলে যেতাম।
এমন দামি দামি মদ সব আমার পদতলে গড়াগড়ি খায়,ব্ল্যাক লেভেল,সিভাস রিগ্যাল,ব্যালেন্টাইন ছাড়া অন্যসব আমার কাছে ভিখিরির লালমুত্র মনে হয়।
আমরা দু'টি অসমান্য কাজ গ্রহন করেছি,যা দেশকে বদলে দেবে,আজকে আমাদের আন্দোলন 'জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর" বদলের,কালকে ভাসানী জাতীয় থিয়েটার" নাম বদলের, আমরা একেরপর এক নাম বদলে দেবো,বাংলাদেশের খোলনলচেসহ বদলে দেব,
আওয়ামী লীগ কিংবা মুজিব পরিবার ছাড়া কারো নামে দেশে কোন প্রতিষ্টান বা জায়গা থাকতে পারবে না, শেখ পরিবারের নাম মানুষকে উচ্চারণ করতে হবে জিকিরের মত।
সম্ভব হলে বায়তুল মোকাররমের নাম পাল্টে দিতাম, অবশ্য বায়তুল মোকাররম না থাকলেই বরং ভাল,আমাদের সকলের কেন্দ্রীয় তীর্থভূমি মুজিববাদের মন্দির ধানমন্ডির ৩২ নং আছে,জাতিকে শেখানেই ইবাদত করতে বাধ্য করতে হবে।
গতকাল রাতে আমার কর্মীদের সাথে আলাপ করেছি,তখন ভিডিওতে এক্সএক্সএক্স চলছিল,ডেঞ্জারাস জিনিস, লাস্ট ফর ডগজ্ : তারপর ইন্ডিয়ান জিফনিশ-এখন আমরা আর ফ্যাটফ্যাটে শাদা বেহায়া,বেলেহাজ মেয়ে গুলোর চোষাচোষি,পাছা মারামারি,ডাবল ট্রিপল স্ক্রু মারা দেখে এক্সাইটেড হইনা,অনেক দেখেছি, সবই একই রকম,রাবিশ,পানসে।
আমাদের পছন্দ নেত্রী গুডস,সাউথ ইন্ডিয়ান আর মুম্বাই-ইন্ডিয়ান এক্সএক্সএক্স দেখে সঙ্গে সঙ্গে খাড়া হই,শাদা মাইয়া গুলো দেখলে হই না,অয় গুলোর দেহে কোন স্বাদ নাই,ওগুলো ব্লান্ডার ও পাম্পারের অটোমেটিক মেশিন; ওগুলো দেখতে দেখতে আমার মনে পড়ছিল আতিকা,তিলোত্তমা, মাহিয়া আরো কি কি যেন নাম,সেই খাসা মাল গুলোর কথা।
যদিও ওদের এবং আরো কয়েকটিকে পাই,একা আমি ফেলে তো হবে না,আমার কর্মী রগকাটা জসিম,ইয়াবা জব্বার,চাপাতি নজরুল,হাতুড়ি সাদ্দামকেও ভাগ দিতে হবে, ওদের একটি গুন হচ্ছে তারা হিন্দু মেয়ে বেশী পছন্দ করে,আমিও করি,ওদের একটু খেলাতে পারলে ওরা উর্বশীদের মত নাচে; আমার কর্মীরা অবশ্য নাচটাচ পছন্দ করে না,ওরা ডুকাতে পারলেই জয় বাংলা বলে শুকরিয়া আদায় করে।
ওরা যখন একেকটা মেয়ের উপর চড়ে বসে, মনে করে মুজিববাদ কায়েমে বিশ কদম এগিয়ে গেছে।
আমি আশ্চর্য হই,তারা মুজিবের তেমন কিছুই জানে না, কিন্তু চিন্তা ও কর্মে মুজিবকেও ছাড়িয়ে যায়।
নির্বাচন টির্বাচন,ইলেকশনটিলেকশনে আমরা বিশ্বাস করি না,ওটা আমাদের পাক ধর্মে নাই,তবুও অংশ নিতে বাধ্য হই,আমাদের উপর নির্দেশ আসে,নিজস্ব লোকছাড়া ভোটের দিন কাউকে কেন্দ্রে আসতে দেয়া হবে না, আমরা জানি আমরা জিতবো,জেতার পর কয়েকদিন চুপ থাকবো, পরের দিন থেকে ঝাপিয়ে পড়বো যারা আমাদের সহ্য করে না তাদের উপর।
ঝাপিয়ে পড়া শব্দটি ঠিক হল না, মহান নেতা ওবায়দুল কাদেরের মতে "শান্তির ঠান্ডা আগুন জ্বালানো" যা জ্বলে না,দহন করে।
আমি আমার কর্মীদের নিয়ে ২৫ টি এলাকা চিহ্নিত করি,আমরা ভাল করেই জানি এরা জীবন থাকতে আমাদের ভোট দিবে না,আমাদের বিরুদ্ধে একটা কলাগাছ কিংবা মান্দারগাছ খাড়ালেও তাকে দিবে,
ওদের ভোট দেয়া চিরকালের জন্য বন্ধ করতে হবে।
ওরা ভোট দেবে কেনো?
ওরা দিবে জিজিয়া,কর...
আমরা তাদের পাড়ায় যায়,আমাদের দেখে তারা কেঁপে উঠে,জয় বাংলা বলে আমরা তাদের বাড়ীতে উঠি, তারা আসসালামু আলাইকুম বলে ফেনা তুলে ফেলে।
তারা আমাদের কোথায় বসাবে ঠিক করে উঠতে পারে না,টুল বেঞ্চ নিয়ে টানাটানি করতে থাকে।
যদিও বসার কোনো দরকার ছিল না,কয়েকদিন পর আমরা বসবো,চড়বো-চেয়ার কিংবা বেঞ্চের উপর নয়,আরো কোমল সুখের জিনিসের উপর।
আমি বলি "মহাশায়েরা আপনারা কেমন আছেন দেখতে এলাম,ভালো আছেন সবাই?
একেকজন ভয়ে ভয়ে বলে " সেইডা আমগো ভাইগ্য,আপনেরা আমগো বাডি আইবেন,সেইডা কুনদিন ভাবতেই পারি নাই,আপনেগো পায়ের দুলায় আমগো বাডি পবিত্র অয়ল"
আমার কর্মীদের জামার ভিতর থেকে অনেক শান্তিপ্রদ জিনিস উকি দিচ্ছিল-দুএকটা পিস্তল,রামদা,কিরিচ,চুরি,চাকু, হাতুড়ি,হকিস্টিক, হেলমেট আর বেশী কিছু না।
আমি বলি 'আপনাদের ভোটের তালিকা দিতে এলাম,যাতে ভোট দিতে আপনাদের কষ্ট না হয়"
একেকজন বলে "আপনেরা কষ্ট কইরা আইছেন,কি দিয়া আপনেগো আপায়ন করি,ইট্টু চা দেই?"
তাদের বউ মেয়ে গুলো দেখার ইচ্ছে আমাদের সবারই ছিল,আগ থেকে দেখে রাখলপ পরে কাজ দিবে, কিন্তু তারা আমাদের আসার সংবাদে তাদের বউ বাচ্চা লুকিয়ে ফেলছে।
কায়দা করে আমি বলি "তালিকার ২৫ নাম্বারে আছে তহুরা খাতুন তার সঙ্গে একটু কথা বলতে পারি?
তহুরা আমাদের সামনে আসেন,আমরা দেখি, আমি বলি আপনার পিতার নাম কি আবদুস সামাদ?
তহুরা বেশ লজ্জা পান, তিনি সলজ্জে বললেন " অয়ডা বুল অয়ছে, অয়ডা আমার সোয়ামীর নাম"
আমি জানি,পিতার জায়গায় স্বামী, স্বামীর জায়গায় পিতার নাম বসানো আমাদের নির্বাচন কমিশনের একটি বড় কৃতিত্ব, তারা আজো পিতা ও স্বামীর পার্থক্য বুঝে না, অবশ্য এসব নাম ভূলের পিছনেও কারন আছে, সংশোধনের নামে মোটাদাগে বানিজ্য হয়।
আমি বলি "এই জন্য আমি দুঃখিত, ক্ষমা চাই, তো আপনারা ভোট দিবেন কোন দলকে?
তহুরা বেশ চালাক মাল, বললেন " আপনাগো দলরেই দিমু"
আমি বলললাম জয় বাংলা, তাহলে আপনাদের ভোট পেয়েই গেলাম, আর কষ্ট করে কেন্দ্রে যাওয়া লাগবে না"
তহুরা বললেন " হুজুর, অনেক কস্ট থেইকা বাচায়া দিলেন, লাইনে দাড়াইতে দাড়াইতে মাজা বেদনা অয়া যায়, তার উপ্রে এইখন আট মাস চলতায়াছে,হাডতেই পারি না"
আমার এক কর্মী বেশ হতাশ হয়, তহুরাকে তার পছন্দ হয়েছিো,কিন্তু মাগিটা আট মাস বাধিয়ে বসে আছে।
আট মাসের পেটের উপর সে চড়তে পারবে কিনা বুঝে উঠতে পারে না।
আরেক কর্মী খুশি হয়,আট মাস পেটের উপর চড়তে কি রকম লাগে তা সে দেখতে চায়।
দুনিয়ায় বৈচিত্র্যের শেষ নাই, কেউ খালি পছন্দ করে, কেউ ভরা পেট চাখতে চায়.....
No comments