ইসকন চিন্ময় কৃষ্ণ : স্বরূপ উন্মোচন
ইসকন চিন্ময় কৃষ্ণ : স্বরূপ উন্মোচন।
চিন্ময় কৃষ্ণের আসল নাম চন্দন কুমার ধর, ধর্মীয় জ্ঞান ও গভীর অনুরাগের কারণে তাকে যেমন উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে, অন্যদিকে উগ্রতা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে সনাতনীদের অস্বস্তির কারণ হয়েও দাড়িয়েছে,
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস হাটহাজারীতে অবস্থিত পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ,যা সনাতন ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসাবে বিবেচিত, এই পুণ্ডরীক ধাম রাধা রানীর বাপের বাড়ী হিসাবে পরিচিত,এখান থেকে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ইসকনের কার্যক্রম শুরু হয়,অপরাপর বিষয়াবলীর জন্য এই ধাম সনাতনী সম্প্রদায়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তীর্থভূমি,ফলে সনাতনীদের কাছে চিন্ময় কৃষ্ণ চিন্ময় প্রভূ হিসাবে সর্বাধিক পরিচিত।
চিন্ময় কৃষ্ণ ধর্মীয় বিষয়ে যতটা না পারদর্শী, তারচেয়ে বেশী পারদর্শী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার কর্মকাণ্ড সনাতনী সম্প্রদায়ের কাছে ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করলেও জাতীয় আলোচনায় অনুপস্থিত ছিলেন।
কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সাথে সাথে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস সনাতনীদের নানা দাবির অন্তরালে রাজপথ গরম করতে শুরু করেন, বলাবাহুল্য তার সভা সমাবেশ গুলোতে পতিত স্বৈরাচার দলীয় নেতা কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।
একটা বিষয় পরিস্কার যে, হাসিনার পতনের কারণে দল হিসাবে আওয়ামী লীগ যতটা না ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে,তারচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ভারত।
তাই ভারতের ইন্ধনে দেশকে অস্থিতিশীল করতেই চিন্ময় মাঠে অবতীর্ণ হয়েছেন।
চিন্ময় কৃষ্ণের যত অপরাধ
৫ ই আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের দিন চট্টগ্রাম নিউমার্কেট বিজয় স্তম্ভের উপর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে স্বৈরাচার পতন উৎযাপন করেন,
২৫ ই অক্টোবর সনাতন জাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে চট্টগ্রামে সনাতনীদের বিশাল গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়, ঐদিন চিন্ময়েের লোকজন বিজয় স্তম্ভের জাতীয় পতাকার উপরে উগ্রহিন্দুত্ববাদী RSS এর গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করে দেন, যা জাগীয় পতাকা অবমাননাসহ একটি দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতি চরম ধৃষ্টতা প্রদর্শনের শামিল।
চট্টগ্রাম আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণকে হুকুমের আসামী করে রাস্ট্রদ্রোহ মামলা হয়।
এর আগে চট্টগ্রাম হাজারী গলিতে জনৈক মুসলিম দোকানদার ইসকন বিরুধী পোস্ট শেয়ার করায় চিন্ময়ের লোকজন ঐ দোকানদারের উপস স্বশস্ত্র হামলা করে, খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দল গিয়ে ঐ দোকানদারকে উদ্ধার করে যথাযথ বিচার করা হবে বলে আস্বস্ত করে, কিন্তু ইসকনের উগ্রপন্থী লোকজন প্রশাসনের কথায় তোয়াক্কা না করে ঐ দোকানদারকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে আইন শৃংখলা বাহিনীর সাথে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়, একপর্যায়ে যৌথবাহিনির উপর এসিড নিক্ষেপ করে চিন্ময় বাহিনীর লোকজন।
সেদিনই ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে ইসকনের নেতৃবৃন্দ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের সাথে ইসকনের কোন সম্পর্ক নেই বলে জানিয়ে দেন।
যদিও এটা ছিল নিচক আইওয়াশ,আদতে চট্টগ্রামে ইসকনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই চিন্ময় কৃষ্ণ দাস।
২০২৩ সালের ৬ ই অক্টোবর International Children Protection Office চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের কাছে ১৮ বছরের নিচে কোন বাচ্চা না যাওয়ার অনুরোধ করার পাশাপাশি, ইসকন নিয়ন্ত্রিত কোন অনাথ আশ্রমে রাত্রিযাপন না করার জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
তার বিরুদ্ধে হিন্দু অনাথ আশ্রমের বাচ্চাদের উপর বলৎকারের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।
এক পর্যায়ে তাকে ইসকন থেকেও বহিস্কার করা হয়।
সব চাপিয়ে আওয়ামীলীগ শাসনামলে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ছিলেন পোয়াবারো, সনাতনীদের কাছে ব্যাপক ক্ষমতাধর এবং প্রভাবশালী লোক।
যৌথভাবে ইসকন ও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে আর্থ আত্মসাৎ, জমি দখল, যৌন নির্যাতন, মন্দির দখল, মুসল্লিদের উপর গুলি বর্ষন, মসজিদে হামলা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের বহু গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
রাস্ট্রদ্রোহ মামলায় তাকে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হলে তার লোকজন ব্যাপক বিক্ষোভে ফেটে পরেন, পরদিন চট্টগ্রাম আদালতে তোলা হলে তার লোকজন সশস্ত্র হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।
কোর্টের মসজিদে আক্রমন করে মসজিদে ভাংচুর ও মুসল্লীদের মেরো রক্তাক্ত করেন,
তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার পর তার লোকজন চট্টগ্রাম কোর্ট ও আশেপাশের এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন, এসময় রাস্ট্রপক্ষের আইনজীবি এডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও জবাই করে হত্যা করেন চিন্ময় কৃষ্ণের উগ্রপন্থী সন্ত্রাসী বাহিনী।
বলাবাহুল্য চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের রাতেই তার উগ্রবাদী সন্ত্রাসী জঙ্গিবাহিনী বড় ধরনের জেনোসাইড চালানোর জন্য প্রস্ততি নেয়ার খবর ছাড়িয়ে পড়ছিল, তারা ফেসবুকে পোস্ট করেও হুমকি ধমকি দিয়ে আসছিল অব্যহতভাবে।।
ইসকন ও চিন্ময় কৃষ্ণ দাস,
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের পরপরই ইসকন নেতৃবৃন্দ বিবৃতি দিয়ে বিষয়টিতে ভারতের হস্তক্ষেপ কামনা করেন,সেখানে বলা হয় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ইসকনের গুরুত্বপূর্ণ নেতা।
কিন্তু বিষয়টি পুরোপুরি ঘোলাটে, কারণ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ইসকনের সাংগঠনিক সচিব হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করলেও গত জুলাই মাসে সংগঠনের কার্যকলাপ বিরোধী কর্মকাণ্ড ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দ্বায়ে তাকে বহিস্কার করা হয়।
আবার হাজারী গলিতে এসিড নিক্ষেপের ঘটনাতেও চিন্ময় কৃষ্ণের ব্যাপারে ইসকন নেতৃবৃন্দ হাত ধূয়ে ফেলছিলেন।
বস্তুত ইসকন ও চিন্ময় কৃষ্ণ দাস একাকার হয়ে একই কাজ করতেছে, আওয়ামী লীগের পতনের পর ইন্ডিয়ার সহযোগিতায় এবং আওয়ামী ক্যাডার বাহিনী সম্মিলিত ভাবে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা লাগানোর জন্য ক্রমাগতভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে।
বলা হয় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস সরাসরি ভারতের নির্দেশে ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছে এবং গায়ে পড়ে ঝাগড়া লাগানোর সকল চেষ্টা করে চলছে।
ইসকন কি ধর্মীয় সংগঠন?
বেসরকারি সেবামূলক সংগঠন হিসাবে ধর্মপ্রচারের জন্য ইসকন নিবন্ধিত সংগঠন হিসাবে প্রবেশ করলেও এই সংগঠনের কাজ কর্ম সবই রাজনৈতিক ও উগ্র হিন্দুত্ববাদী আদর্শের সাথে সম্পৃক্ত।
বিশ্বব্যাপী বহুদেশে এই সংগঠন নিষিদ্ধ এবং কঠোর গোয়েন্দা নজরদারিতে সীমাবদ্ধ।
কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইসকন বাংলাদেশে সনাতনীদের কাছে উড়ে এসে জুড়ে বসা সংগঠন হিসাবে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠে।
রাজনৈতিকভাবেও প্রাসঙ্গিক হয়ে যায়, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে ইসকন সনাতনীদের উপর জেকে বসে পুরো প্রজন্মের চিন্তা চেতনাটাই পাল্টে দিয়েছে, শান্তিপ্রিয় সনাতনীদের গড়ে তুলেছে RSS ও BJP এর আদর্শে।
ইসকনের হাতে নির্যাতিত স্বয়ং সনাতনীরও,
ঠাকুরগাঁও জেলায় শ্রীশ্রী রসিক রায় জিউ মন্দিরের দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সনাতন ও ইসকনের মধ্যে লড়াই চলেছে ২০০৯ সালের ১৮ ই সেপ্টেম্বর এই মন্দিরের দূর্গপুজা নিয়ে সনাতন ভক্ত বনাম ইসকন ক্যাডার বাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ইসকনের হাতে ফুলবাবু নামে এক সনাতনী নিহত হয়,
পরে সেই মন্দির সরকারি সহায়তায় ইসকন দখল করে নেয়।
২০১৬ সালে চট্টগ্রাম প্রবর্তক সংঘে ইসকনের সাথে সনাতনীদের সংঘর্ষ বাঁধে, এসময় ইসকনের হাতে ১২ জন সনাতনী গুরুতর আহত হয়, পরে এই মন্দিরও আওয়ামী লীগ সহায়তায় দখল করে নেয় ইসকন।
এভাবে চট্টগ্রামের প্রায় বেশীরভাগ মন্দির ও দেশের অর্ধেক মন্দির ইসকন দখল করে নেয় সনাতনীদের হাত থেকে। পুরো দখলবাজী ও আধিপত্য বিস্তারে ইসকনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছিল আওয়ামী প্রশাসন।
২০১৯ সালে ইসকন Food For Life প্রজেক্টের অন্তরালে স্কুল গুলোতে খাবার ও প্রসাদ বিতরণ করেন,সেখানে স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে হরে কৃষ্ণ হরে রাম সমস্বরে পাঠ করানোর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
পুরো ব্যাপারটা ইস্যুর আড়ালে ধামাচাপা দেন আওয়ামী লীগ সরকার, ২০১৬ সালে সিলেটে ইসকন মন্দির থেকে পার্শ্ববর্তী মসজিদে গুলিবর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে,এসময় ইসকন বিরোধী পোস্ট দেয়া ওসমান নগর মসজিদের ইমাম আবদুর রহমান অজ্ঞান কারণে খুন হয়, গলায় ফাস লাগানো অবস্থায় মসজিদের রুম থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাও ধামাচাপা দেয়া হয়।
২০১৪ সালে ঢাকার স্বামীবাগ মসজিদে তারাবির নামাজে বাধা দেয় ইসকন কর্মীরা।
এক পর্যায়ে সংঘর্ষ লেগে যায়, যার মূল কারণ ছিল নামাজের সময় মন্দির থেকে উচ্চস্বরে কীর্তনের আওয়াজ আসা, বলাবাহুল্য ইচ্ছেকৃত ভাবে জোর শব্দ করা হত।
ইসকন কর্তৃক মিছিল থেকে স্লোগান তুলা হয় " একটা একটা মুসলিম ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর স্লোগান " বেপরোয়া উদ্যত ইসকন হরে কৃষ্ণ হরে রাম স্লোগানের পরিবর্তে সনাতনী প্রজন্মকে শিখিয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী স্লোগান।
তৈরী করেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী,
এই বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস।
পুরো সনাতনী জনগোষ্ঠীর নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলেছেন উগ্রহিন্দুত্ববাদী আদর্শের আলোকে।

No comments