শেখ মুজিব থেকে শেখ হাসিনা: নির্বাচনের সিঁড়িতে একই পথে হাঁটা।
শেখ মুজিব থেকে শেখ হাসিনা: নির্বাচনের সিঁড়িতে একই পথে হাঁটা।
-মুহাম্মদ সানাউল্লাহ চাটগামী
একটি গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচনের ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই প্রক্রিয়া যদি গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে সেই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সরকার ও তার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। নির্বাচন কেবল আইন বা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নয়, এর সাথে জড়িত থাকে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনগণের আস্থা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থেকে শুরু করে তার কন্যা শেখ হাসিনা পর্যন্ত ক্ষমতার সিঁড়িতে নির্বাচন নিয়ে বারবারই দূরাচার করে এসেছে,
জনগণের উপর কর্তৃত্ব খাটানোর জন্য জনমত তোয়াক্কা করা দূরের কথা,বরং গলাটিপে ধরে বাকশাল থেকে ফ্যাসিবাদ পরম্পরায় রাজনৈতিক দূর্বৃত্তায়ন ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক সকল ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
প্রায় এক যুগের বেশী সময় ধরে জাতিকে জোরপূর্বক মুজিব বন্দনা গলদকরণ করিয়ে "দেবতা"র আসনে বসানো হয়েছিল, সেই মুজিব শেখ হাসির বাবা হিসাবে উপযুক্ত ছিলেন বটে।
চেপে রাখা শাসন আর চোষনের জটিল ইতিহাসে না গিয়ে শুধু নির্বাচনের উপর এক পলক ঘুরে আসা যেতে পারে।
শেখ মুজিবের নির্বাচন:
স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। সেই সময়ে আওয়ামী লীগ ছিল একক শক্তিধর রাজনৈতিক দল। নির্বাচনে মোট ১৪ টি দল অংশ নিলেও জাসদ,ন্যাপ ভাসানী,ন্যাপ মোজাফফরের দল ছাড়া বলার মত আওয়ামীলীগের আর কোন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না,
মাত্র ৩ মাস আগে প্রতিষ্টিত দল জাসদ ছিল আ"লীগের একমাত্র প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল। সরকার গঠনের মত নিশ্চিত ম্যান্ডেট আ'লীগের ছিল।
কিন্তু শেখ মুজিব কাউকে একটি আসন ছাড় দেয়ার ক্ষেত্রে নারাজ ছিলেন। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসনে জয়লাভ করলেও, শেখ মুজিব সম্পূর্ণ ৩০০ আসনেই বিজয়ী হওয়ার জন্য একটি অভিনব কৌশল অবলম্বন করেন—হেলিকপ্টারে ভোট চুরি।
যে সব আসনে তার দলের প্রার্থীরা হেরে যাচ্ছিল, সে সব আসনে অন্য আসন থেকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ব্যালেট বক্স এনে জিতিয়ে দেয়ার প্রচলন শেখ মুজিবের হাতেই সূচনা লাভ করে।
সবচেয়ে বেশী হেলিকপ্টারে প্রয়োজন হয়েছিল কুমিল্লার খন্দকার মোশতাকের আসনে,
যদিও পরবর্তী সময়ে এই খন্দকার মোশতাকের হাতেই শেখ মুজিবের পতন ঘটে।
১৯৭৩ সনের নির্বাচনের ভোট চুরির প্রসঙ্গে আমরা তার রাজনৈতিক সহচর আবদুল হামিদের "সংবিধান, সংবিধানিক ও রাজনীতি:বাংলাদেশ প্রসঙ্গ" বই এর ৫১ নং পাতা উদ্ধৃতি করতে পারি,তিনি লিখেন:
"বেতার টিভিতে নির্বাচনের ফলাফল প্রচার শুরু হলে আ" লীগ যখন দেখল আ"লীগের প্রথম সারির নেতা বিরোধী দলের নেতার কাছে পরাজিত হয়ে যাচ্ছে, তখনই মুজিব সরকার মিডিয়া ক্যুর এর আশ্রয় নেয়া শুরু করল,নির্বাচন নিয়ন্ত্রণের জন্য পূর্বাহ্নে গঠিত কেন্দ্রীয় প্রচার কমিটিকে স্তব্ধ করে দিয়ে সরকার গণবভনের কন্ট্রোল রুমে ফলাফল প্রচারের দ্বায়িত্ব নেয়,আ"লীগের কতিপয় নেতাকে জোর করে বিজয়ী করার জন্য ছয়টি এলাকায় হেলিকপ্টার পাটিয়ে দেয়া হয় এবং এবং সকল ব্যালট পেপার কেড়ে নিয়ে নতুন ব্যালট ভর্তি বাক্স কেন্দ্রে রেখে আসা হয়"
১৯৭৩ সনের নির্বাচনে হেলিকপ্টারে ভোট চুরির মাঝেও সীমাবদ্ধ ছিল না,মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার আগেই বিরোধীদলীয় শক্তিশালী প্রার্থীদের জোর করে থামিয়ে দেয়া হয়ছিল।
এর মধ্যে এইচএম কামরুজ্জামান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কেএম ওবায়দুল সহ জিল্লুর রহমান, মনোরঞ্জন ধর এবং তোফায়েল আহমদ আসন গুলোতে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ব্যাপক মারধর করে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে দেয়া হয়নি।
ভোলার একটি আসনে শেখ মুজিবের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছিলেন ডাঃ আজহার উদ্দীন, যে কিনা নিজ এলাকায় অত্যান্তশ্রদ্ধাভাজন এবং গ্রহনযোগ্য ব্যাক্তি ছিলেন,১৯৭০ সালে আ"লীগের প্রার্থী হয়ে একই আসন থেকে জিতে এসেছিলেন তিনি, কিন্তু শেখ মুজিবের দুঃশাসন দেখে ১৯৭৩ সনে জাসদ থেকে প্রার্থী হন এবং শেখ মুজিবের বিরোধী প্রার্থীতে অবতীর্ণ হন, শক্ত মোকাবিলায় পরাজয়ের শংকায় শেখ মুজিব তার ক্যাডার তোফায়েল আহমেদকে দিয়ে তাকে মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার দিন অপহরণ করেন, নির্বাচনের ১ দিন পর তাকে হাত পা বাধা অবস্থায় রাস্তায় পাওয়া যায়,
ঐ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় শেখ মুজিব জয়লাভ করেন।
এছাড়াও জমা দেয়ার পরেও শেখ মুজিবের ক্যাডার বাহিনী মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়,তার পরিপ্রেক্ষিতে শেখ মুজিবসহ ৬ জন আ'লীগ হেভিওয়েট প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বিজয়ী হয়ে যায়,
এতসব প্রতিকূলতা পেরিয়ে যারা মাঠে টিকে ছিলেন,তাদের জন্য নির্বাচন স্বস্তির ছিল না,
শেখ মুজিবের রাজনৈতিক আরেক সহচর আবুল মনসুর আহমদ তার "আমার দেখা রাজনৈতিক পঞ্চশ বছর বই এ লিখেন "বিরোধী দলগুলোর নেতাদের মাঠে বক্তৃতা দেয়া দূরের কথা,যান বাহনের অভাবে তারা ঠিকমত প্রচারণাও চালাইতে পারিল না,মন্ত্রীরা সরকারি যানবাহনের সুবিধা নিলেন"
বস্তুত বিরোধী দলের নেতারা কোথাও গাড়ী ভাড়া করতে গেলে মুজিবের ক্যাডাররা গাড়ী মালিকদের হুমকি দিতেন অন্য দিকে মুজিব বাহিনী সরকারি গাড়ী, হেলিকপ্টার এমনকি রেডক্রসের জরুরী গাড়ীকেও নির্বাচনী প্রচারের কাজে ব্যবহার করেছে। ৯ ই মার্চ,নির্বাচন পরবর্তী অনিয়ম তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করছিল বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক দল গুলো। ঐ সময় আ.স.ম আবদুর রব লিখিত বিবৃতিতে বলেন "বিরোধী দলের প্রার্থীদের পরাজিত হতে বাধ্য করা হয়েছে"
মেজর জলিল বলেন "তার দলকে পোলিং এজেন্ট দিতে দেয়া হয়নি, জাল ভোট দেয়া হয়েছে, সন্ত্রাস সৃষ্টি করা হয়েছে এবং নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণায় কারচুপি করা হয়েছে"
কমিউনিস্ট পার্টি বলেন "কতগুলো আসনে যেখানে আ'লীগ প্রার্থীরা শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীতার সম্মুখীন হয়,সে সব স্থানে আ'লীগ প্রার্থীর তরফ থেকে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন পরিপন্থী অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপ অনুষ্টিত হয়েছে বলে বহু অভিযোগ রয়েছে"
ন্যাপের সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ৯ ই মার্চ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন "কমপক্ষে ৭০ টি আসনে, যেখানে ন্যাপ ও অনন্য বিরোধী দলীয় প্রার্থীদের জয়ের সুনিশ্চিত সম্ভবনা ছিল, সে সব আসন গুলোতে রাস্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে অস্ত্রের ঝনঝনানি, ভয়ভীতি,দখলবাজী, গুন্ডাবাহিনী দিয়ে বুথ দখল, পোলিং এজেন্ট অপহরণ, ভূয়া ভোট,বিদেশী সাহায্য সংস্থা, জাতিসংঘ, সরকারি গাড়ী এবং রেডক্রসের গাড়ী ব্যবহার প্রবৃতি চরম অগণতান্ত্রিক আচরণের মাধ্যমে উক্ত নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে,এবং বিরোধী প্রার্থীদের জোরপূর্বক পরাজিত করেছে"
শেখ মুজিবের জবরদখলের নির্বাচনের পর বিরোধী দল গুলোর উপর নেমে আসে নির্যাতনের স্টিমরোলার, নির্বাচনের পর আড়াই বছর ধরে খুন গুম হয়েছে বিরোধী দলের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ,
জেলে রাখা হয় জাসদের ১০ হাজার নেতা কর্মীকে, স্বাধীন দেশে প্রথম গুম ও বিচারবহির্ভূত খুনের সূচনা করেন শেখ মুজিব।
শিরাজ সিকদারকে প্রথমে গুম, অতঃপর খুন করে দম্ভভরে সংসদে চিৎকার করেছিল "আজ কোথায় সিরাজ সিকদার?"
শেখ মুজিবের পেটোয়া বাহিনী রক্ষীবাহিনীর তান্ডব ও লুটপাটে পরবর্তী বছর ১৯৭৪ সনে নেমে আসে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
শুধু খাবারের অভাবে ৫ লক্ষ মানুষ মারা যায়, সারা বিশ্বে তখন বাংলাদেশকে "বটমলেস বাস্কেট" আখ্যা দেয়া হয়,
ভারতীয় অর্থনীতিবিদ নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন তার গভেষনায় প্রমান করেছেন যে, ৭৪ দুর্ভিক্ষ অভাবের কারণে হয়নি, বরং মুজিব বাহিনীর বেশুমার লুটপাট ও মজুদদারীর কারণে হয়েছিল।
ভিন্ন মত ও দলের প্রতি শেখ মুজিব এতটাই অসহিষ্ণু ছিলেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসুর নির্বাচনে মুজিবপন্থী ছাত্রলীগ ভয়াবহ ভোট ডাকাতি করছিল,ঐ সময় জনপ্রিয় পত্রিকা গণকন্ঠের নির্বাহি সম্পাদক আফতাবউদ্দিনকে কলাভবনের সামনে থেকে তুলে নিয়ে যায় পুত্র শেখ কামাল ও ভাগ্নে শেখ মনিরের সন্ত্রাসী বাহিনী,নির্বাচন শেষ হবার পর তাকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় ছেড়ে দেয়া হয়,
পরবর্তীতে একদলীয় বাকশাল কায়েম করে শেখ মুজিব গণতান্ত্রিক সকল ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে দেন।
শেখ হাসিনার নির্বাচন:
শেখ মুজিবের দেখানো পথ ধরে চলেছেন তার কন্যা শেখ হাসিনা। ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ধ্বংসের পথে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের বর্জন এবং সর্বাত্মক অবরোধের মধ্য দিয়ে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয় আওয়ামী লীগ। ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটার না থাকা, ভোটকেন্দ্র গরু ছাগলের অবাধ বিচরণ সেই সময়ের নির্বাচনের দৃশ্য ছিল অত্যন্ত হাস্যকর।
নির্বাচন পরবর্তী আন্দোলনকে পুজি করে "অগ্নি সন্ত্রাস" এর মাধ্যমে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের উপর অবর্ণনীয় জুলুম অত্যাচারের স্টীম রোলার চালিয়ে বিরোধী দল,মত ও সংবাদ মাধ্যমের মেরুদণ্ড গুড়িয়ে দেয়া হয়,
স্বাধীন মত প্রকাশের সকল দুয়ার রুদ্ধ করে দেয়,
এরপর প্রশাসনকে দলীয় ক্যাডারবাহিনী বানিয়ে, নির্বাচন কমিশনকে অঙ্গসংগঠনে পরিণত করে ২০১৮ সালে এসে নির্বাচনের নামে আরেক প্রহসন মঞ্চস্থ করে আ'লীগ সরকার।
যেখানে ‘তাহাজ্জুদের ভোট’ নামে পরিচিত রাতে সকল ব্যালট বাক্স ভর্তি একচেটিয়া ম্যান্ডেট কেড়ে নেয়া হয়,
নির্জীব বিএনপিকে ৭ আসন আর জাতীয় পার্টিকে গৃহপালিত বিরোধী দল বানিয়ে 'হাস্যকর' এক সংসদ কায়েম করে আওয়ামী লীগ আরও পাঁচ বছর জোরপূর্বক এককভাবে শাসন করার সুযোগ লাভ করে।
গনতন্ত্রের মাথা খেয়ে পোষ্য বিরোধী দল তৈরী থেকে শুরু করে আইন, প্রশাসন সর্বস্তরে দলীয়করণের মধ্যদিয়ে যে নব্য বাকশালের মহাযাত্রা শুরু হয়েছিল তার চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।
"ডামি নির্বাচন" ও "ডামি প্রার্থী" এসব আ'লীগ সরকারের দেয়া বাংলাদেশের ইতিহাসের উপর কলংকের তিলক।
এসব নির্বাচন নামক প্রহসনে খরচ করেছে হাজার কোটি টাকা, মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে মানুষের হাজার কোটি খরচ করার মত নির্লজ্জ ফ্যাসিস্ট,আ'লীগ ছাড়া আর কোন দল বা জাতি আছে কিনা আমার জানা নেই।
এই নির্বাচনে এসে ফুরিয়ে যায় লেজুড় হয়ে থাকা কথিত বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রয়োজন,
একচ্ছত্র ক্ষমতার জন্য জলাঞ্জলি দিয়েছে দেশের সকল স্বার্থ, অরক্ষিত করেছে দেশের স্বাধীনতা।
ছাত্র জনতার অবিস্মরণীয় গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা পালিয়ে না গেলে বাংলাদেশের ভাগ্যকাশে কি ছিল একমাত্র আল্লাহ মালুম,
মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ঋন করে
উন্নয়নের নামে দলীয় লোকজনকে অবাধ লুটপাটের সুযোগ দিয়ে তার বাপের আমলের সেই ৭৪ দুর্ভিক্ষ আর বিশ্বব্যাপী বহুত প্রচলিত "বটমলেস বাস্কেট" তথা তলাবিহীন ঝুড়ির ধারপ্রান্তে এনে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে "শেখ" পরিবারের সর্বশেষ কলংক।
শেখ মুজিব থেকে শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের অধীনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের ক্ষমতাকেন্দ্রিক নীতি ও কৌশল দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করেছে। ক্ষমতার চরম দখলদারিত্ব এবং জনগণের ভোটাধিকার হরণ,বেশুমার লুটপাট আর বৈদেশিক ঋনের মাধ্যমে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এই ইতিহাস শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবারের নয়, এটি একটি জাতির গণতান্ত্রিক স্বপ্নের ধ্বংসযাত্রার ইতিহাস।

No comments