Header Ads

মহান এক বিপ্লবীকে দিয়ে খুন গুমের সূচনা

 


সিরাজ সিকদার হত্যা

মহান এক বিপ্লবীকে দিয়ে খুন গুমের সূচনা।

৬০ দশকের এক সময়, জাকড়া চুলের, উন্নত পুরুষালী চোয়ালের এক নবীন ছাত্র অনেকের নজর কাটল,বরিশালের কাদামাটির গন্ধ তখনো তার গায়ে, কিন্তু তার চোখ দুটো অসম্ভব রকমের উজ্জ্বল আর  দৃঢ় সংকল্পে স্থির।

ছাত্র ইউনিয়নের মিছিলে উদ্দীপ্ত এই তরুনের স্লোগান, তুখোড় বক্তৃতা আর জ্বলজ্বলে চোখ দেখে সবাই বুঝেছিল এই ছেলের ভিতর আগুন আছে, সে নজর কাটল কমিউনিস্ট নেতাদের। 

এক পর্যায়ে তিনি কমিউনিস্ট পার্টিতে যুক্ত হোন।

তখনো বুঝতে পারেনি বিপ্লবের স্বপ্নে বিভোর এই ছেলেটি নিজেকে তৈরি করতেছিল ভবিষ্যতের বিপ্লবের জন্য। 

ছেলেটির ডাক নাম "সেরা", পুরো নাম সিরাজ হক  সিকদার। 

১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে নিখাঁদ দেশপ্রেমের স্বাক্ষর রেখে পলাশীর প্রান্তরে জীবনদানের বিনিময়ে জাতীয়তাবাদী চেতনার বীজ বপন করেছিলেন নবাব সিরাজ উদ দৌলা, এর ২০০ বছর পর বাংলার বঞ্চিত, নিপীড়িত গণমানুষের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক মুক্তির শপথে উদ্দীপ্ত আরেক যুবকের আবির্ভাব ঘটেছিল এ ভেজা মাটির কোমল বুকে, তিনিও আরেক সিরাজ অর্থাৎ আরেক প্রদীপ শিরাজ সিকদার। 


রাজনীতিতে সিরাজ

সিরাজ সিকদার, এক অকুতোভয় দেশপ্রেমিক, যার অস্তিত্বে জড়িয়ে আছে স্বদেশ, অথবা তার অস্তিত্ব ছড়িয়ে আছে স্বদেশের প্রতিটি কোণায়। তিনি অনুধাবন করতে সমর্থ হয়েছিলেন যে, মানুষের প্রকৃত মুক্তির জন্য বিপ্লবের কোন বিকল্প নেই। 

সিরাজুল হক সিকদার ১৯৫৯ সালে বরিশাল জিলা স্কুল থেকে মেট্রিক ও ১৯৬১ সালে ব্রজ মোহন কলেজ থেকে আইএসসি পাশ করেন। তৎকালীন সময়ে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভবিষ্যত কর্মজীবনের কথা ভেবে রাজনীতি থেকে দূরে থাকত, কারণ অঘোষিতভাবে ইউনিভার্সিটিতে তখন রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু এসময়েই সিরাজ সিকদার ছাত্র ইউনিয়নে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তখন তিনি লিয়াকত হলের ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন (মেনন গ্রুপ)। তিনি ১৯৬৭ সালে বুয়েট থেকে ১ম বিভাগে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী লাভ করেন। ডিগ্রী লাভের পর পরই তিনি সরকারী চাকরীতে (সি অ্যান্ড বি বিভাগের প্রকৌশলী হিসেবে) যোগ দান করেন, কিন্তু মাত্র ৩ মাসের ব্যবধানে তিনি চাকরী থেকে ইস্তফা দিয়ে টেকনাফ ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড নামের একটি বেসরকারী কোম্পানীতে যোগদান করেন।



কমিউনিষ্ট রাজনীতিতে

১৯৬৬ সালের মাও’র সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ছোঁয়া লাগে উভয় বাংলায়। সবাই যখন দ্বিধা–বিভক্ত, ঠিক তখনই সিরাজ সিকদার পূর্ব বাংলার মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন কৃষক–শ্রমিকের আন্দোলনের। সেসময়ে পাকিস্তানে কম্যুনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ থাকায় পার্টির তৎপরতা চলতো গোপনে। সেবছরই মহান বিপ্লবী কমরেড চারু মজুমদার ও কানু সন্যালের নেতৃত্বে ভারতের নকশালবাড়ীতে কৃষকরা সশস্ত্র আন্দোলন করে। ভারত কাঁপানো এ আন্দোলনের ঢেউ ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র বাংলায়। সেই নকশালবাড়ী আন্দোলনে উজ্জীবিত এদেশের (পূর্ব বাংলা) তরুণ বিপ্লবীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠে সভাপতি মাও’এর আদর্শে। অপরদিকে, নকশালবাড়ীর এই আন্দোলনকে কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা “হঠকারিতা” বলে অভিহিত করেন। কিন্তু তরুণরা পার্টির এহেন অভিমত মেনে নিতে পারেননি। তাদের একটি অংশ এর প্রতিবাদে দল ত্যাগ করে গঠন করেন “রেডগার্ড”। পুরো ঢাকা শহরের দেওয়ালে দেওয়ালে লেখা হয়, “বন্দুকের নলই সকল ক্ষমতার উৎস”, “নকশালবাড়ী জিন্দাবাদ”সহ আরো অনেক দেওয়াল লিখন, সেই সাথে বিলি করা হতে থাকে লিফলেট। যারা এসব প্রচারণা চালাতো, সিরাজ সিকদার ছিলেন তাদেরই অন্যতম।

সিরাজের চোখে তখন তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকরূপী শোষকদের নির্যাতন–নিপীড়ণ, হত্যা, জাতীয় সম্পদ লুন্ঠন থেকে সশস্ত্র পন্থায় পূর্ব বাংলা ও এর মানুষের প্রকৃত মুক্তির স্বপ্ন, যার মাধ্যমে পরাজিত হবে পাকিস্তানের জান্তা সরকার। ১৯৬৭ সালে মালিবাগে সিরাজ প্রতিষ্ঠিত করেন “মাও সে–তুঙ চিন্তাধারা গবেষণাগার”, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল তরুণদের প্রকৃত মানব–মুক্তির জন্য বিপ্লবের সঠিক পথ দেখানো। তিনি ছাত্র ইউনিয়নের (মতিয়া) সূর্য্য রোকনের হাতে এই গবেষণা কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব দেন। রোকন ছিলেন হো চি মিন, মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমূখের দ্বারা অনুপ্রাণিত, সিরাজের ঘনিষ্ট অনুসারী ও প্রতিবেশী। এসময়ে তারা “পূর্ব বাংলার শ্রমিক আন্দোলন”–এর ইস্তেহার লিখেন ও পরবর্তীতে এক মধ্যরাতে (১৯৬৮ সালের ৮ জানুয়ারী) তারা ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে এই ইস্তেহার প্রিন্ট করেন। তখন তাঁর বয়স মাত্র ২৪।



বাংলাদেশের প্রথম পতাকা নির্মাতা ও উত্তোলনকারী

বাংলাদেশের যে লাল সবুজের পতাকা আমরা দেখি, এই অনমনীয় স্বাধীন প্রিয় পতাকা সিরাজ সিকদারের নিজের হাতে তৈরি করা। ১৯৭০ সালের ৮ জানুয়ারী সংগঠনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে স্বাধীন পূর্ব বাংলার পতাকা ওড়ানো হয়। ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ ও ময়মনসিংহে ওড়ে সবুজ জমিনের মাঝে লাল সূর্য্য ও মাঝে তিনটি মশাল ক্ষচিত এই পতাকা। অথচ বুর্জোয়া ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র কাঠামো এমনই অকৃতজ্ঞ যে সিরাজ সিকদারকে সেই স্বীকৃতিটুকও তারা দেয়নি।

তার তৈরি পতাকার মধ্যখানে অবস্থিত লাল সূর্যের ভিতর থেকে ৩ টি মশাল মুছে বর্তমান পতাকার রূপ দেয়া হয়েছে


স্বাধীনতা যুদ্ধে সিরাজ সিকদার 


১০ ই মার্চ তিনি শেখ মুজিবকে চটকদার বক্তব্য দিয়ে ফাকাফাকি না করে সংগ্রাম শুরু করার আহবান জানিয়েছিলেন,একই সঙ্গে দেশপ্রেমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে অস্থায়ী বিপ্লবী জোট সরকার ঘটন এবং সশস্ত্র যুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ পরিষদ ঘটনের আহবান জানিয়েছিলেন তিনি।

১৯৭১ এর এপ্রিলে তিনি গড়ে তুলেন জাতীয় মুক্তিবাহিনী,অক্টোবরে একই সাথে তিনি পাকিস্তানি, ভারতীয় সামরিক বাহিনী এবং ধান্দাবাজ মুজিব বাহিনীসহ আ'লীগের সশস্ত্র ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন এবং যুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন।

সিরাজ সিকদার পাকিস্তানকে ঔপনিবেশবাদী,ভারতকে বৈরী আধিপত্যবাদী এবং আ'লীগকে ভারতপন্থী সুবিধাবাদী ও আধিপত্যবাদী গনবিরোধী শক্তি হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন।

১৬ ই ডিসেম্বর স্বাধীনতা ঘোষনার পরে সিরাজ সিকদার এবং তার দল পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি ঘোষণা দেন যে, বাংলাদেশ পাকিস্তানি ঔপনিবেশি থেকে  এবার ভারতীয় ঔপনিবেশ হয়েছে,

তিনি দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তি এবং সংগঠনের যৌথ অথবা সমন্বিত নেতৃত্বে জাতীয় বিপ্লবী সরকার গড়ে তোলার তাগিদ দেন,

তিনি বলেন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সৈনিকদের নিয়ে সেনা,নৌ এবং বিমানবাহিনী গঠন এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের সমুদয় সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং তাদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

ব্যাক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থ, রাজনৈতিক অভিলাষ কিংবা রাজনৈতিক নিজের নেতৃত্ব কিংবা প্রতিপত্তি প্রতিষ্টা এসব কোনটাতেই লোভাতুর দৃষ্টিতে থাকাননি সিরাজ সিকদার। 


মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী ভারতীয় আধিপত্যবাদ এবং মুজিব বাহিনীর অনাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম


মিথ্যা বা ভূলের বিরুদ্ধে তিনি সর্বদা আদর্শের পতাকাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেন। যার ফলশ্রুতিতে পরবর্তীতে ১৯৭১’এর মধ্যভাগে তাঁর হাতেই গঠিত হয় “পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি”, “জাতীয় মুক্তিবাহিনী”। পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শোষণের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে সংগঠিত করেন মুক্তিযুদ্ধকে, শোষকশ্রেণী কর্তৃক এদেশের মানুষের জাতীয় আত্মমর্যাদার পরিপন্থী কাজের প্রতিবাদ করেন। এর নিদর্শন আমরা দেখতে পাই যখন ১৯৭৩ ও ৭৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিনে সর্বহারা পার্টি সারাদেশে হরতালর ডাক দেয়। পার্টির মুখপত্র ‘স্ফুলিঙ্গ’ ও প্রচারপত্রে বলা হয়, ১৬ ডিসেম্বর হচ্ছে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদী শক্তির কাছে মুজিব সরকারের আত্ন সমর্পণ দিবস। একমাত্র জনযুদ্ধের মাধ্যমেই জনগণের বিপ্লবী সরকার প্রতিষ্ঠা করে প্রকৃত বিজয় আসতে পারে। মাওবাদীদের বিরুদ্ধে মুজিব সরকারের ব্যপক দমন-পীড়ন, হত্যা-নির্যাতনের প্রতিবাদে সর্বহারা পার্টি ঢাকায় হরতাল আহ্বান করলে সন্তোষ থেকে মওলানা ভাসানী বিবৃতি দিয়ে একে সমর্থণ করেন। হরতাল সফল হয়।…

আর এই হরতালকে কেন্দ্র করে শাসক রূপী শোষকবাহিনী প্রচার মাধ্যমে নানান মনগড়া কাহিনী ছড়ায়, বিপ্লবীদের ‘ডাকাত’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, কিন্তু সাধারণের মুক্তির সংগ্রাম চলমান থাকে। ফ্যাসিস্ট শাসকশ্রেণী ভিন্নমতকে নিঃশেষ করে দিয়ে একদলীয় শাসন কায়েমের নিমিত্তে তারা শোষণের উগ্রতায় মেতে উঠে; সেনাবাহিনী, রক্ষীবাহিনী পুলিশ ও গোয়েন্দাবাহিনীকে দিয়ে চালানো হয় বর্বরোচিত রাষ্ট্রীয় হত্যাযজ্ঞ। 

তার লড়াই ছিল এ সমাজের অনাচারের বিরুদ্ধে, তার লড়াই ছিল কায়েমী স্বার্থের বিরুদ্ধে। 

স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের মুল মন্ত্র থেকে বিচ্যুত সরকার, তার সমর্থক কায়েমী স্বার্থবাদী সামাজিক গোষ্ঠী গুলো বাঙালীর এই তরুন সিরাজ সিকদারকে মেনে নিতে পারেনি।

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে রবিনহুডের মত এক আকর্ষক চরিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন তিনি।

তিনি ও তার দলের ছদ্মবেশে অতর্কিত উপস্থিতি এবং নিমিষেই মিলিয়ে যাওয়া নিয়ে সে সময় বেশ রোমাঞ্চকর গল্প শোনা যেত।

সর্বহারা পার্টির সদস্যদের প্রচার পত্র বিলি,হঠাৎ চিকামারা এবং আতর্কিত পুলিশ এবং রক্ষিবাহিনীর উপর হামলা চালানো এসব নিয়ে লোকজন,বিশেষ করে আইন শৃংখলা বাহিনীর উদ্বিগ্ন এবং আতংকিত থাকত।

সিরাজ সিকদার গ্রেফতার ও হত্যা

১৯৭৫ সালের ১ জানুয়ারী সিরাজ সিকদারকে চট্টগ্রাম থেকে আটক করা হয়, ঐদিন রাতেই তাকে বিমানে করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। পরে গণভবনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন শেখ কামাল, তোফায়েল আহমেদ প্রমুখ। সিরাজ সিকদার আত্মসমর্পণ করে সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হতে নিজেকে বিরত রাখতে বলা হয়, তিনি তাতে রাজী না হয়ে শেখ মুজিবের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনি দেশটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছেন, এর জন্য আপনিই দায়ী থাকবেন।” 

তখন উপস্থিত শেখ মুজিবের বড় ছেলে শেখ কামাল তাকে রিভলবার দিয়ে আঘাত করেন, তখন  কমরেড সিরাজ লুটিয়ে পড়েন। সিরাজ সিকদারকে এরপরে আগারগাও রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে অকথ্য নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। রাতে তার লাশ সাভারে নিয়ে ‘এনকাউন্টার’এর নাটক মঞ্চস্থ করা হয়।

বলা হয় তাকে নিয়ে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য যাবার সময় এক পর্যায়ে পালানোর সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোটা হয়,তাতে তিনি মারা যান।

তার জানাজায় ছদ্মবেশে উপস্থিত হয়েছিলেন তৎকালীন সেনাবাহিনীর ২ জন মেজর, 

মেজর নুর রেজা ও মেজর ডালিম।

শেখ মুজিবের বিচারবহির্ভূত সেই হত্যাকান্ডের প্রথম মঞস্থ নাটকের ভার আজো বয়ে বেড়াচ্ছি আমরা।


শেখ মুজিবের দম্ভোক্তি, "কোথায় আজ সিরাজ সিকদার? 


সিরাজ সিকদার মৃত্যুর ৩ সাপ্তাহ পরে ৩০ জানুয়ারি সংসদের এক অধিবেশনে শেখ মুজিব দম্ভোক্তি করে বলেন "কোথায় আজ সিরাজ সিকদার? "

তিনি বিচারবহির্ভূত কাপুরুষোচিত হত্যাকান্ডকে কৃতিত্ব হিসাবে বিবেচনা করেছিল,

সিরাজ সিকদার হত্যার ফলাফল হয়েছিল গভীর এবং সুদূর প্রসারী।

এই হত্যা ভবিষ্যতের বাংলাদেশের এবং জাতীয় রাজনীতির পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে।

ধারণা করা হয় শেখ মুজিবকে ব্রাশফায়ার করেছিল মেজর নূর, আর ইনি ছিলেন সিরাজ সিকদারের একনিষ্ঠ ভক্ত, ১৫ ই আগস্ট নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন " ওরা আমার নেতাকে হত্যা করেছে, আমি তাদের হত্যা করে প্রতিশোধ নিয়েছি"

সিরাজ সিকদারকে কেন হত্যা করা হল?

তার অপরাধের জন্য তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করানোর সাহস করেনি কেন মুজিব সরকার? 

তখন সবাই জানত, বিচারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় স্বসম্মানে মুক্তি পেয়ে বেরিয়ে আসবে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ সিকদার। 

দেশের তরুণ এবং যুবসমাজসহ গণ মানুষের এমনিতেই তার ছিল জাদুকরী জনপ্রিয়তা, তার উপরে সে স্বাভাবিক বিচার প্রক্রিয়ায় আদালত থেকে খালাস পেয়ে যদিও বেরিয়ে আসে, তাহলে তাকে অসম একটা রাজনৈতিক ভাবমূর্তি এনে দিতে পারে, যে ভাবমূর্তি তখনকার রাজনৈতিক মঞ্চের প্রধান পুরুষের জন্য চ্যালেন্জিং হয়ে উঠত,সে কারণেই শেখ মুজিব তাকে বিচারের আওতায় আনার কোন চেষ্টা না করে, স্বাধীন বাংলাদেশ প্রথম খুন মুক্তিযোদ্ধা খুনের মধ্যদিয়ে বিচারবহির্ভূত খুনের সুচনা করলেন।



আজও প্রাসঙ্গিক সিরাজ সিকদার 

মহান বিপ্লবী সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কিন্তু তার দেশপ্রেম আর সমাজিক অনাচাররোধের সংকল্পকে "ডাকাতি" আখ্যা দিয়ে মুজিব ও তার দোসররা একটি চেতনা,একটি আদর্শ এবং একটি বিপ্লবকে কাপুরুষোচিতভাবে হত্যা করেছে।

তার মতবাদ নিয়ে আমাদের আপত্তি আছে, কিন্তু তার কর্ম ছিল মহান এবং বিস্তৃত। 


বিনম্র শ্রদ্ধা হে তরুন বিপ্লবী সিরাজ সিকদার। 


আরো পড়ুন : মেধাশুণ্য বাংলাদেশের এক অমুল্য রতন

No comments

Powered by Blogger.